ছবি সংগৃহীত
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বেপরোয়া বাণিজ্য এবং চিকিৎসকদের চরম অবহেলার অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি উপজেলার ‘আল নূর হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা সেবার নামে চলা বাণিজ্যিক মানসিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আল নূর হসপিটালে ডা. খাইরাতুন হিসান (কেয়া) নামের এক নারী চিকিৎসকের অধীনে এক প্রসূতির নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাব ও চরম অবহেলার কারণে ডেলিভারি করাতে ব্যর্থ হন ওই চিকিৎসক। একপর্যায়ে নবজাতকের মাথা জরায়ুতে আটকে গিয়ে প্রসূতি ও শিশুর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দায় এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে কুমিল্লায় স্থানান্তর করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নরমাল ডেলিভারির নামে রোগীদের কাছ থেকে চড়া ফি আদায়ের পাশাপাশি অহেতুক ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সিজারিয়ান সেকশনে বাধ্য করার ঘটনা অহরহ ঘটছে। এছাড়া উক্ত চিকিৎসক দম্পতি (ডা. কেয়া ও ডা. সোহাগ) মুন্সীরহাটে 'এস কে ক্লিনিক' নামে সি-ক্যাটাগরির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, যা আর্থিক প্রভাব দেখিয়ে বি-ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার জোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদের সাথেও উক্ত চিকিৎসকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
একের পর এক অপচিকিৎসা ও প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন নাগরিকরা। একের পর এক অঘটন ঘটার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো বর্তমানে চিকিৎসাকেন্দ্রের বদলে 'মৃত্যুর ফাঁদে' পরিণত হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এ অবস্থায় চৌদ্দগ্রামের স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খলা রোধ ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লার সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।